১৫ দিনে সড়ক-রেল-নৌপথে ঝড়লো ২৯৫ জনের প্রাণ

0 ১১

পবিত্র ঈদুল আজহায় যাতায়াতে দেশের সড়কমহাসড়কে ২৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত এবং ৪৪৭ জন আহত হয়েছে।সড়ক, রেল নৌপথে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ২৯৫ নিহত ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (৩০জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগররুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিবমো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন২০২১ প্রকাশকালে এই তথ্য তুলে ধরেন।

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতি বারের মতো বছরও প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত হলেও স্বল্পসময়ের জন্য গণপরিবহন চালু করায় সড়কেগণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহন বিশেষ করে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সাব্যাটারিচালিত রিক্সা, ট্রাকপিকআপ কাভার্ডভ্যানে একসঙ্গে গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে গত ছয় বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়কে দুর্ঘটনা প্রাণহানি বেড়েছে।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন গত ১৪ জুলাই থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জননিহত ৪৪৭ জন আহত হয়েছে।

সময়ে রেলপথে নয়টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত পাঁচজন আহত হয়েছে।

নৌ পথে ১৩ টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ৩৬ জন আহত এবং ২১ জন নিখোঁজ হয়েছে। সড়ক, রেল নৌপথে যৌথভাবে২৬২টি দুর্ঘটনায় ২৯৫ জন নিহত ৪৮৮ জন আহত হয়েছে। তবে ২৩ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার পর ২৫জুলাই থেকে সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমতে থাকে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় আঞ্চলিকদৈনিক এবং অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ মনিটর করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আগের ঈদ গুলোতে সরকারের নানা মহলের তৎপরতা থাকায় দুর্ঘটনারলাঘাম কিছুটা টেনে ধরা সক্ষম হলেও কঠোর লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরনজরদারি না থাকায় এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনা প্রাণহানি তুলনামূলক ভাবে বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে

জাতীয় আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা

দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ

যানবাহনের ত্রুটি সারানোর উদ্যোগ গ্রহণ

ধীরগতির দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা

সড়কে চাদাবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা

সড়কে রোড সাইন রোড মার্কিং স্থাপন করা

সড়ক পরিবহন আইন যথাযতভাবে বাস্তবায়ন করা

ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ করা

গণপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা

মানসম্মত সড়ক নির্মাণ মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল হক প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com