“অভিনয় শিল্প মিডিয়া বাঁচাতে দরকার সততা” “দরকার প্রকৃত প্রশিক্ষিত শিল্পী কলাকুশলী”

Published: শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ   |   Modified: শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
 

ডিএল টিভি ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমিনুল হক আমিন

বাংলাদেশের অভিনয় মিডিয়ার দূর্ণীতি এখন ভয়াবহ পর্যায়ে। যে কারণে আমাদের দেশের কোন টেলিভিশন চ্যানেলের নাটকই মানুষ দেখে না। দেখেনা সিনেমাও। দেখবেইবা কেন। নব্বইয়ের দশকের পেছনে ফিরে তাকাই। প্রতিটি নাটক সিনেমা দেখার জন্য দর্শক সময়, ক্ষন ধরে প্রতিক্ষার প্রহর গুনতো। কারণ একটাই, তখন যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা নির্মিত হতো নাটক সিনেমা। প্রত্যেক অভিনয় শিল্পী বছরের পর বছর থিয়েটার চর্চার মাধ্যমে অভিনয় করে, কর্মশালা করে, বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে পারফেক্ট শিল্পী হিসেবে তৈরী করে তারপর টেলিভিশন সিনেমায় পারফরম্যান্স করতো। দর্শক তা মন্ত্রমুগ্ধের মতো গ্রহণ করতো। আর নির্মাতারাও প্রকৃত প্রশিক্ষিত শিল্পী কলাকুশলী নিয়ে কাজ করতেন। ফলে প্রতিটি নাটক সিনেমাই মান সম্পন্ন, দর্শক গ্রহণ যোগ্য হতো এবং প্রকৃত শিল্পী কলাকুশলীরা তাঁদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে মর্যাদাপূর্ণ জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। পক্ষান্তরে আজ সম্পূর্ণ বিপরীত মুখি দূর্ণীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে স্বপ্নময় জীবন জীবিকার আমাদের এই পবিত্র মিডিয়া। কোন রকম পূর্ব অভিজ্ঞতা বিহীন যে কাউকে দিয়েই অভিনয় করানো থেকে নির্মাণ পর্যন্ত করানো হচ্ছে । ফলে প্রডাকশনগুলো হচ্ছে হাস্যকর, বিরক্তকর, নেক্কারজনক, অশ্লীল, বেলাল্লাপনায় কুরুচিপূর্ণ। সুন্দর বা সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগৃহীত কিছু ছেলে মেয়েকে, আবার অর্থ বা কোন কিছু প্রাপ্তির মাধ্যমে অদক্ষ অজ্ঞ কাউকে কাউকে দিয়ে অভিনয়সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করানো হচ্ছে, যে জন্য আজ আমাদের এই প্রিয় নাটক সিনেমার মান নিচে নামতে নামতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে যেমনি এ মাধ্যমটি হারিয়েছে মর্যাদা পূর্ণ ঐতিহ্য, তেমনি হারিয়েছে দর্শক প্রিয়তা। আমাদের বাংলাদেশের দর্শক আজ দেশীয় কোন নাটক সিনেমাই তেমন একটা দেখে না। ভারতীয় নাটক সিনেমাসহ বিশ্বের সকল মিডিয়াই এখন দর্শকের হাতের মুঠোয়। রিমোটের সুইচ টিপে মুহুর্তেই দর্শক পেয়ে যায় তাদের কাঙ্ক্ষিত মানসম্পন্ন চমৎকার গল্পের গাঁথুনিতে, প্রকৃত শিল্পী কলাকুশলী দ্বারা নির্মিত সব নাটক সিনেমা। অতএব ক্রমোন্নত তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রতিযোগিতার বিশ্বায়নে টিকে থাকতে হলে, এ মাধ্যমের হারানো ঐতিহ্য এবং দর্শক প্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে হলে সর্বাগ্রে এবং অতি দ্রুত প্রকৃত প্রশিক্ষিত অভিনয় শিল্পী, লেখক, পরিচালক ও কলাকুশলী দ্বারা নাটক সিনেমা নির্মাণের কোন বিকল্প নেই।সৎ, নিষ্ঠাবান, প্রকৃত পেশাদার নির্মাতা বিনিয়োগকারী যখন এ মাধ্যমে সম্পৃক্ত হবে, তখন অবশ্যই দর্শক চাহিদাপূর্ণ পরিবার, দেশ এবং জীবনের গল্প নিয়ে সিনেমা নাটক নির্মাণ হবে। নায়ক, নায়িকা, বাবা, মা, প্রধান চরিত্রসহ সকল ধরনের চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটবে নির্মাণে।প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে যেমনি এগিয়ে আসবে, তেমনি এ শিল্প মাধ্যমের সকল সংগঠনের সদস্যদের জীবন জীবিকার কথা মাথায় রেখে প্রকৃত প্রশিক্ষিত শিল্পী কলাকুশলীদের যথাযথ সম্মানীর বিনিময়ে নির্মাণশৈলীতে এগিয়ে যাবে আমাদের প্রাণের মিডিয়া। সেই সাথে সহানুভূতিশীল মনোভাব নিয়ে আমাদের সকল পরিচালকবৃন্দ স্বল্প আয়ের প্রকৃত প্রশিক্ষিত অভিনয় শিল্পী বিভিন্ন চরিত্রাভিনেতা যাদের দৈনিক সম্মানী ২/৩/৪/৫ হাজার টাকার বেশী নয়, তাদের নিয়মিত কাষ্ট করে জীবিকা নির্বাহে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে দুঃস্থ অসহায় শব্দ বিলীন হয়ে সম্মানজনক শিল্পী হিসেবে সামাজিক মর্যাদায় জীবন যাপন করতে পারে। আবার তখন প্রযোজনাও হবে সেরা ও উন্নত মানের।তবে চ্যানেল মিডিয়া এজেন্ট বা দালালদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে আমাদের প্রাণের এই নাটক সিনেমা মিডিয়াকে। প্রকৃত প্রশিক্ষিত দক্ষ পেশাদার অভিনয় শিল্পী, কলাকুশলী দ্বারা নির্মিত হতেই হবে আমাদের বাংলাদেশের প্রতিটি নাটক সিনেমা, তবেই আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে আমাদের নাটক চলচ্চিত্র। যেমন করে ভারতীয় নাটক বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বময় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।এতে করে আবার সরগরম হয়ে উঠবে আমাদের প্রাণের চলচ্চিত্র নাটক মিডিয়া। ফিরে আসবে সোনালী সুদিন, অতি সাধারণ স্বল্প আয়ের প্রকৃত শিল্পী কলাকুশলীরা এখানে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারবে। দুঃসময়ে আর কোন শিল্পী কলাকুশলী দুঃস্থ অসহায় হয়ে হাত পাতবে না সাহায্যের আশায়।আমদের মিডিয়া সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের মানষিকতা আরও উন্নত, সহানুভুতিশীল সর্বময় হৃদ্যতাপূর্ণ হওয়া উচিৎ। যে কোনভাবে তারকা বনে যাওয়াদের নিয়েই যেন তাদের একমাত্র মাতামাতি, টক শো, লাইভ, আনন্দোৎসব। অন্য সব সাধারণ, সল্প আয়ের বিভিন্ন চরিত্রাভিনেতাদের দিকে তাদের কোন হৃদ্যতা আন্তরিকতা সহানুভুতির লেশমাত্রও থাকে না। অথচ নির্বাচনের সময় তাদের ভোট নিতে কতো করজোড়ে প্রার্থনা। সে ধরণের নেতৃবৃন্দের সুন্দর মনোভাব সৃষ্টি হউক, জয় হোক আমাদের শিল্প মিডিয়ার।

 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com