আইনমন্ত্রীর বক্তব্য ‘মিথ্যা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক অপপ্রচার’: বিএনপি

0

পঁচাত্তরের ঘটনার সঙ্গে জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক অপপ্রচার’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল বুধবার (১৮ আগস্ট) বিকালে বিএনপির উদ্যোগে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রায়কেও অবশ্যই প্রশ্নিবিদ্ধ করছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন, যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অপরাধমূলক ঘটনা।

কিন্তু অপরাধমূলক ঘটনার ‍বিচার উক্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে এজাহার দায়ের করে তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে সুদীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষী-সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে বিচার কাজ সম্পন্ন করেছে। ওই বিচার প্রক্রিয়ার পর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ‘পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজ চাপ্টার’ কে পুনরায় বির্তকের বিষয় হিসেবে তুলে এনে আইনমন্ত্রী জ্ঞানপাপীর পরিচয় দিচ্ছেন।

তার এই ধরনের বক্তব্য থেকে প্রশ্ন জাগে, ওই বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে জড়িত থেকে আওয়ামী লীগের ভাষায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার পর এই ধরনের বক্তব্য কেনো দিচ্ছে? এই ধরনের বক্তব্য কি ক্রিমিনাল এক্সিকিউশনের পর্যায়ে পড়ে না?

তিনি বলেন, সত্য কথাটা উঠে আসুক এজন্য আজকে আমরা ‘ইতিহাস কথা কয়’ বলে এই অনুষ্ঠান করছি। আমাদের মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ একটি তাবেদার রাজনৈতিক দল।

আওয়ামী লীগের সরকার একটা পতুল সরকার। তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। সেই কারণে তারা মিথ্যা দিয়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে মিথ্যা কথা বললে কেউ বিশ্বাস করবে না।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, জিয়া সম্পর্কে এই ক্ষমতাসীন দলটি প্রথম থেকেই হীনমন্যতায় ভোগে এবং তার অবদানকে কোনোভাবে তারা সহ্য করতে পারে না। প্রায় ৪৯ বছর পর স্মৃতিচারণ করে বুঝতে পারি সেই আমল থেকে রাজনৈতিক সরকার শহীদ জিয়াকে উপযুক্ত মূল্যায়ন না করে অপদস্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের উদাহরণ সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশ পুনর্গঠনে অবদান রাখার স্বার্থে চাকরি অব্যাহত রাখেন।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com