কাশ্মীরে যুদ্ধ লাগলে ভারতের জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হবে পাকিস্তানী-তুর্কী যে অস্ত্র

Published: শনিবার, নভেম্বর ২১, ২০২০ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ   |   Modified: শনিবার, নভেম্বর ২১, ২০২০ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
 

ডিএল টিভি ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছে আজারবাইজান থেকে সশস্ত্র ড্রোন কিভাবে আর্মেনিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, কামান ও ট্যাঙ্কের সুরক্ষা তছনছ করে দিয়ে আজারবাইজানকে সুস্পষ্ট জয় এনে দিয়েছে।

অনেক বিশেষজ্ঞই বলেছেন, নাগার্নো-কারাবাখে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে আজারবাইজানকে এই দরকারি সুবিধা দিয়েছিল তুরস্কের অ্যাটাক ড্রোন। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা জানিয়েছেন যে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সাথে পাকিস্তানের কোন যুদ্ধ লাগলে তুরস্ক এবং এমনকি চীনও পাকিস্তানকে এই সুবিধাজনক অস্ত্র দেবে।

আজারবাইজন যে সব নাটকীয় ভিডিও প্রকাশ করেছে, সেখানে দেখা গেছে তুরস্কের বাইরাকতার ড্রোনগুলো আর্মেনিয়ার বিভিন্ন টার্গেটে আঘাত করছে, আর আর্মেনিয় সেনারা সেগুলো বসে বসে দেখেছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, আর্মেনিয়া যুদ্ধে প্রায় ১৮৫টি টি-৭২ ট্যাঙ্ক, ৯০টি সাঁজোয়া যান, ১৮২টি কামান, ৭৩টি বিভিন্ন ধরণের রকেট লঞ্চার, টোর সিস্টেম ও পাঁচটি এস-৩০০ সিস্টেমসহ ২৬টি সার্ফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম, ১৪টি রাডার বা জ্যামার, একটি সু-২৫ জঙ্গি বিমান, চারটি ড্রোন এবং ৪৫১টি সামরিক যান হারিয়েছে। সামরিক বিষয়ক ব্লগ ওরিক্সের বিশ্লেষক স্তিজন মিৎজার এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই তীব্র যুদ্ধে প্রায় ২৩০০ আর্মেনিয় সেনাও নিহত হয়েছে।

অন্যদিকে, আজারবাইজানের ক্ষতি হয়েছে অনেক কম। কিছু হিসেব মতে আর্মেনিয়ার ছয় ভাগের এক ভাগ মাত্র ক্ষতি হয়েছে আজারবাইজানের।

এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে, তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের ড্রোন দিয়ে কিভাবে ব্যাপক ক্ষতি এড়িয়েও আকাশশক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা সম্ভব। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর আমেরিকা আফগানিস্তানে তাদের শিকারী ড্রোনগুলো মোতায়েন করার পর থেকেই ড্রোন যুদ্ধ স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

আজ যে দেশই স্বচালিত এই সিস্টেমের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে দেশই এগিয়ে থাকবে, সেই দেশ তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

ভারতের জন্য তাৎপর্য

তুরস্কের সাথে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ভারতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে যে, তুরস্ক হয়তো পাকিস্তানের কাছে বাইরাকতার টিবি-২ সশস্ত্র ড্রোন বিক্রি করতে পারে। বিগত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক অনেক বেড়ে গেছে।

প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে ভারতের সাথে ক্রমবর্ধমান সঙ্ঘাতের কারণে পাকিস্তান হয়তো উচ্চক্ষমতার ড্রোন কেনার জন্য তুরস্কের দ্বারস্থ হতে পারে। টিবি-২ প্রমাণ করেছে যে, তারা যে কোন এয়ার ডিফেন্সকে পুরোপুরি অন্ধ করে দিতে পারে। রাশিয়ান পান্তসির ও এস-৩০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে তারা পরাস্ত করেছে।

টিবি-২ সে কারণে অদম্য এবং সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠতর দেশগুলোকেও এটা হতবাক করে দিতে সক্ষম। পাকিস্তান এই সিস্টেম ব্যবহার করে সীমান্তে ভারতীয় কামান, এমনকি ট্যাঙ্ক ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমেরও প্রচুর ক্ষতি করতে পারে।

ভারতের দুই প্রতিবেশী চীন আর পাকিস্তান উভয়ই যুদ্ধে ভয়াবহ ড্রোন মোতায়েনে সক্ষম, সেখানে ভারত সমমানের অস্ত্র নিয়ে আসতে হিমশিম খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভারত ইসরাইল থেকে আমদানিকৃত সার্চার আর হারো ড্রোন মোতায়েন করেছে, যেগুলো শুধু নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com