বিশ্বনবির প্রতি ভালোবাসা সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা কী?

Published: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ ১:২২ অপরাহ্ণ   |   Modified: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ ১:২২ অপরাহ্ণ
 

ডিএল টিভি ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয় বরং একজন ঈমানদারের জন্য দ্বীন ও ঈমান-আকিদার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি হলেন বিশ্বমানবতার জন্য জীবনের সব কাজের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় আদর্শ। কুরআনুল কারিমের অনেক জায়গায় বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করেতাদের জন্যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনের মধ্যে রয়েছে উত্তম নমুনা।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ২১)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওই সব মানুষের জন্য উত্তম নমুনা, যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে। বিশ্বনবির প্রতি ভালোবাসার নমুনা কেমন হবে, অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা তা এভাবে তুলে ধরেছেন-

– ‘বলুনতোমাদের পিতাতোমাদের পুত্রতোমাদের ভাইতোমাদের স্ত্রীতোমাদের আত্মীয়-স্বজন এবং ওই সম্পদযা তোমরা উপার্জন কর এবং ব্যবসা-বাণিজ্য যার ক্ষতির আশঙ্কা তোমরা কর এবং ঐ ঘর-বাড়িযাতে তোমরা বসবাস করযদি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়েতাঁর রাসুলের চেয়ে এবং তাঁর রাস্তায় জিহাদের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে অপেক্ষা কর আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত। আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ২৪)

সে কারণেই বিশ্বনবির প্রতি উম্মতের ভালোবাসা হবে এমন যে, তিনি যা নির্দেশ দেন তা বাস্তবায়ন করা। সে মতে জীবন পরিচালনা করা। যা থেকে বিরত থাকতে বলেন, তা মেনে নেয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন-

 ‘রাসুলুল্লাহ তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর আর যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক। আল্লাহকে ভয় কর নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।’ (সুরা হাশর : আয়াত ৭)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ-নিষেদ মেনে নেয়াও ঈমানের অন্যতম নিদর্শন। কেননা তাঁর নির্দেশ মেনেই উম্মতে মুহাম্মাদি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বিচার-ফয়সালা করবে। সে ঘোষণাও এসেছে কুরআনে-

‘মুমিনদের উক্তি তো এই-যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলেআমরা শ্রবণ করলাম এবং আনুগত্য করলাম। আর ওরাই তো সফলকাম।’ (সুরা নুর : আয়াত ৫১)

মনে রাখতে হবে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জীবনের সবকিছু থেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে। কেননা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অন্যতম শর্ত। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা থেকেপুত্র থেকে এবং সব মানুষ থেকে অধিক প্রিয় না হই।’ (বুখারি)

বিশ্বনবির মর্যাদা ও কুরআনের নির্দেশনা

এ কারণেই কুরআন এবং হাদিসে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদায় আল্লাহ তাআলা অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। যাতে তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ও তার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে পারে মুমিন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

– (হে রাসুল! আপনি) ‘বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন আর তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। বলুন, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুত যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে পছন্দ করেন না।‘ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১-৩২)

– ‘এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।’ (সুরা আন-নিসা : আয়াত ১৩)

– হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়। তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর। যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।’ (সুরা আন-নিসা : আয়াত ৫৯)

– ‘অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম! সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।’ (সুরা আন-নিসা : আয়াত ৬৫)

– ‘আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রাসুলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবি, ছিদ্দিক, শহিদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম!’ (সুরা আন-নিসা : আয়াত ৬৯)

– ‘বলুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের আনুগত্য কর। অতপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রাসুলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌঁছে দেয়া।’ (সুরা আন-নুর : আয়াত ৫৪)

– ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না।’ (সুরা মুহাম্মদ : আয়াত ৩৩)

উল্লেখিত আয়াতগুলোতে সব বিষয় ফয়সালার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে নিয়ে যাওয়টাকে ঈমানের শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে না মানলে আমল বরবাদ হবার কথাও বলা হয়েছে।

সে কারণে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্বমানবতার জন্য রোল মডেল তথা অনুকরণীয় আদর্শ মেনে নেয়া ঈমানের অন্যতম শর্ত করা হয়েছে।

কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি পরিপূর্ণ ভালোবাসা দেখাতে তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়া জরুরি। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে বিশ্বনবির আদর্শ বাস্তবায়নে যথাযথ ভূমিক পালন করাও জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার আদর্শ পরিপুর্নভাবে নিজেদের জীবনে ধারণ করার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালে সফল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com