তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুসরণে সহজ হবে করোনা মোকাবিলা: রিজভী

Published: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ ৩:০৩ অপরাহ্ণ   |   Modified: বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ ৩:০৩ অপরাহ্ণ
 

ডিএল টিভি ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশের এই কঠিন সংকটকালে তারেক রহমান যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যে সকল প্রস্তাব দিয়েছেন, দাবি জানিয়েছেন তা কার্যকর হলে ও অনুসরণ করলে করোনা মোকাবিলা সহজসাধ্য হবে ইন্শাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজ এমন এক সময়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, যখন গোটা বিশ্ববাসী প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সমগ্র বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে। প্রতি মুহূর্তে নতুন আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। লক ডাউন, আইসোলেশন, সেল্ফ কোয়ারেনটাইনে সম্পূর্ণরূপে থমকে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। প্রতিটি দেশ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হতে পরিত্রাণ পেতে অন্য দেশ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। ভয়ংকর এক কঠিন পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছি আমরাসহ বিশ্ববাসী। সরকারি হিসাবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত আর ৫ জনের মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়েছে। কেভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট, চিকিৎসকদের পিপিই কিংবা হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ’র প্রচণ্ড অভাব এদেশে। সারা দেশের হাসপাতাল থেকে হাজার হাজার স্যাম্পল আসছে অথচ টেস্ট করতে পারছে মাত্র ৭০-৮০টি। এই অপ্রস্তুত দৃশ্যপটের মধ্যে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি ধেয়ে আসছে। গোটা দেশবাসী শংকিত-আতংকিত। এই অবস্থার দ্রুত অবসান জরুরি।’

বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এই ভয়াল দুর্যোগময় সময়ে, মহাক্রান্তিকালে দেশবাসী, সরকার, সাধারণ জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতি সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।’

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে লন্ডন থেকে প্রদত্ত এক ভিডিও বক্তৃতায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জনাব তারেক রহমান অবিলম্বে দেশে ‘চিকিৎসা জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন তা কার্যকর করার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে তিনি ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কাজকে অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা এবং বিশেষ বোনাস প্রদান, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল সরঞ্জাম, পিপিই, করোনা টেস্ট কিট সরবরাহ করে দেশের প্রতিটি উপজেলায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবীণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের চিকিৎসা সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ, করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষি শ্রমিক, গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক সহায়তার উদ্দেশে দ্রুততার সঙ্গে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং দেশে কমপক্ষে আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় কিংবা স্থানীয় সকল নির্বাচন স্থগিত করারও  দাবি জানিয়েছেন। আমরা মনে করি, দেশ এবং জনগণের স্বার্থে প্রতিটি দাবিই অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ভিডিও বার্তায় মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ঘোষণায় আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে এটি অবশ্যই আনন্দ ও স্বস্তির খবর। সন্তান হিসেবে এজন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই’। তারেক রহমান দেশের চলমান সঙ্কটকে সবার জন্যই মহাবিপদ উল্লেখ করে আতংকিত না হয়ে বরং সাহস ও ধৈর্য নিয়ে এবং নিরাপদ থাকার সকল নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমান আরও বলেছেন, দোষারোপের রাজনীতি, মুখরোচক বাক্যবাণ, কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে কিংবা হুমকি-ধামকি শক্তি দেখিয়ে এই ঘোর বিপদ মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই এই বিপদের দিনে প্রতিটি মানুষকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।  দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজের অবস্থা-অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে গিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নিজেকে, নিজের পরিবারকে এবং প্রতিবেশীকে নিরাপদ রাখার নীতি গ্রহণ করতে হবে।’ 

রিজভী আরও বলেন, ‘তারেক রহমান বলেন, তবে এই বিপদ মোকাবিলায় সবার আগে প্রয়োজন রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ। এই ভাইরাসটি এতটাই ছোঁয়াচে এবং স্পর্শকাতর যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছে, কারো সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও কোয়ারেনটাইনে থাকতে হবে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, সাবান কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে, যাতে মানুষ থেকে মানুষের সংস্পর্শে এটি ছড়াতে না পারে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান একইসঙ্গে কক্সবাজার জেলায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসবাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে যাতে করোনা ভাইরাস হানা দিতে না পারে সেটি যেকোনও মূল্যে নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।’

প্রিয় স্বদেশের বিপদ মোকাবিলায় স্বাধীনতার ঘোষকের দল বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে মানুষের কল্যাণে আবারো বিশেষ ভূমিকা পালন করার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান একটি দায়িত্বশীল দলের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে নিজেকে এবং নিজেদের পরিবারকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীর কল্যাণে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের সহায়তায় যথাসম্ভব ভূমিকা পালনের জন্যও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।  

ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া কিংবা বাংলাদেশ, দেশের প্রতিটি নাগরিক যিনি যেখানেই থাকুন, সবার সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য আমরা মহান আল্লাহর রহমত কামনা করছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি শিগগিরই আমাদেরকে এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করবেন।’

 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com