খুলনায় দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে ট্যাংকলরি ধর্মঘট

Published: সোমবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৯ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ   |   Modified: সোমবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৯ ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
 

ডিএল টিভি ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জ্বালানি তেল বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা বীমা চালু, ভাড়া বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে খুলনাসহ বিভাগের ১৫ জেলায় সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, ধর্মঘটের বিষয়ে আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকায় পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও তিনটি তেল ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকদের সংগঠন পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম কাবুল। ওই সভার ওপরই ধর্মঘটের বিষয়ে পরবর্র্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে রবিবার সকাল ৬টা থেকে ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা এ কর্মবিরতি শুরু করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীসহ বিভাগের ১০ জেলায় ২৯৮টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এ সব পেট্রোল পাম্পে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ছোট-বড়ো গণপরিবহন চলাচল করে। ট্যাংকলরি ধর্মঘটের কারণে গণপরিবহনগুলোতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

তেল পরিবশেকদের সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিসমূহ নিয়ে কর্তৃপক্ষ তালবাহানা করছে। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ফিলিং স্টেশন তথা জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ওপর অযথা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধান। যা মেনে নিয়ে জ্বালানি ব্যবসা করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।

এদিকে শ্রমিকরা খুলনার খালিশপুরস্থ পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি তেল ডিপোর তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি পালন করছেন। ধর্মঘটের ফলে অতিরিক্ত ট্রাক-লরির চাপে ফিলিং স্টেশন, ট্রাক-লরি স্ট্যান্ডে জায়গা না হওয়ায় ট্রাক-লরিগুলোকে সড়ক-মহাসড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

দাবিগুলো হচ্ছে- ‘জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে সাত শতাংশ প্রদান, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট না-কি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ পেট্রোল পাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারি অন্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান, ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যে কানো স্থাপনা নির্মাণের আগে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুরাদ হোসেন বলেন, কর্মবিরতির কারণে খুলনার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলায় চলছে না ট্যাংকলরির চাকা। একইসঙ্গে পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ডিলার ডিস্ট্রিবিউটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-মহাসচিব ও খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৫ দফা দাবিতে আমরা ধর্মঘট পালন করছি। এসব দাবি মানতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন চলবে।

এর আগে শনিবার খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় কর্মসূচি সফলের আহ্বান জানানো হয়।

Hits: 2

 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com